বাংলাদেশে স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। অতিরিক্ত তেলে ভাজা খাবারের বদলে কম তেলে সুস্বাদু রান্না করতে চান অনেকেই। সেই জায়গা থেকেই কম তেলে, দ্রুত এবং ঝামেলাহীনভাবে রান্না করার জন্য বাংলাদেশে Air Fryer এখন বেশ জনপ্রিয় একটি কিচেন অ্যাপ্লায়েন্স। বিশেষ করে ফ্রাই, গ্রিল, রোস্ট বা বেক - সব কিছু এক যন্ত্রে করা যায় বলে এটি অনেক পরিবারের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। আর এই সেগমেন্টে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে একটি হলো Philips। টেকসই বিল্ড কোয়ালিটি, উন্নত প্রযুক্তি এবং দীর্ঘমেয়াদি পারফরম্যান্সের জন্য Philips Air Fryer বাংলাদেশে ব্যাপক জনপ্রিয়।
বাংলাদেশে বর্তমানে ফিলিপসের বিভিন্ন সিরিজের অনেকগুলো মডেল পাওয়া যাচ্ছে। তবে বাজেট, সাইজ এবং ফিচারের ভিন্নতার কারণে সঠিক মডেলটি বেছে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। আজকের এই বিস্তারিত নিবন্ধে আমরা ফিলিপসের ১০টি সেরা মডেল নিয়ে আলোচনা করব এবং আপনাকে জানাব কোনটি আপনার জন্য সেরা হবে।
এয়ার ফ্রায়ার কী এবং এটি কীভাবে কাজ করে?
অনেকে মনে করেন এয়ার ফ্রায়ার অনেকটা মাইক্রোওয়েভ ওভেনের মতো, কিন্তু ধারণাটি ভুল। এয়ার ফ্রায়ার মূলত একটি কম্প্যাক্ট 'কনভেকশন ওভেন'।
Air Fryer হলো এমন একটি ইলেকট্রিক কুকিং ডিভাইস যা খুব অল্প তেল বা অনেক সময় তেল ছাড়াই খাবার ভাজা, বেক বা গ্রিল করতে পারে। এটি 'র্যাপিড এয়ার টেকনোলজি' (Rapid Air Technology) ব্যবহার করে কাজ করে। এর ভেতরে থাকা হিটিং এলিমেন্ট প্রচণ্ড তাপ উৎপন্ন করে এবং একটি শক্তিশালী ফ্যান সেই গরম বাতাসকে খাবারের চারপাশে খুব দ্রুত ঘুরিয়ে দেয়। এর ফলে খাবারের বাইরের অংশটি ডুবো তেলে ভাজার মতোই মচমচে হয়, কিন্তু ভেতরটা থাকে নরম ও জুসি। এটি ব্যবহার করলে সাধারণ ভাজার তুলনায় প্রায় ৮০-৯০% পর্যন্ত কম তেলের প্রয়োজন হয়।
বাংলাদেশে ফিলিপসের ১০টি সেরা এয়ার ফ্রায়ার মডেল
বাংলাদেশে এয়ার ফ্রায়ারের বাজার গত কয়েক বছরে দ্রুত বড় হয়েছে। স্বাস্থ্য সচেতনতা, সময়ের অভাব, এবং স্মার্ট কিচেনের চাহিদা - সব মিলিয়ে মানুষ এখন ডিপ-ফ্রাইয়ের বদলে এয়ার-ফ্রাই বেছে নিচ্ছেন। নিচে সেরা ১০টি Philips Air Fryer মডেলের বিস্তারিত আলোচনা তুলে ধরা হলো।
১. Philips HD9285/91 Airfryer 5000 Series XXL Connected

এটি ফিলিপসের প্রিমিয়াম ফ্ল্যাগশিপ XXL মডেল, যা বড় পরিবার এবং স্মার্ট কিচেন ব্যবহারকারীদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি। এতে রয়েছে বিশাল ধারণক্ষমতা এবং অত্যাধুনিক ওয়াই-ফাই কানেক্টিভিটি সুবিধা।
ফিচার ও স্পেসিফিকেশন
|
বৈশিষ্ট্য |
বিস্তারিত |
|
মডেল |
HD9285/91 |
|
ক্যাপাসিটি |
৭.২ লিটার (প্রায় ১.৪ কেজি) |
|
পাওয়ার |
~২০০০ ওয়াট |
|
কুকিং ফাংশন |
১৬-ইন-১ |
|
কানেক্টিভিটি |
Wi-Fi + HomeID App |
|
কন্ট্রোল |
ডিজিটাল টাচ |
বিস্তারিত বিবরণ
XXL সাইজ হওয়ায় এটি দিয়ে আস্ত মুরগি রোস্ট, বড় পরিমাণ ফ্রেঞ্চ ফ্রাই বা পারিবারিক দাওয়াতের স্ন্যাকস একবারে তৈরি করা যায়। এর র্যাপিড এয়ার টেকনোলজি নিশ্চিত করে যে খাবার বাইরে মচমচে এবং ভেতরে জুসি থাকবে।
স্মার্ট কানেক্টিভিটির মাধ্যমে মোবাইল অ্যাপ থেকে তাপমাত্রা ও সময় নিয়ন্ত্রণ করা যায় এবং কয়েকশ রেসিপি অ্যাক্সেস করা সম্ভব। এর কুইক-ক্লিন বাস্কেটটি ডিশওয়াশার সেফ হওয়ায় পরিষ্কার করার ঝামেলা অনেক কম।
মূল্যঃ প্রায় ২৪,০০০ – ৩৫,০০০ টাকা।
২. Philips NA350/00 Dual Basket Airfryer 3000 Series

এটি ফিলিপসের উদ্ভাবনী ডুয়াল বাস্কেট মডেল, যা একই সময়ে দুটি ভিন্ন খাবার আলাদাভাবে রান্না করতে সক্ষম। এটি মূলত বহুমুখী রান্না পছন্দ করা ব্যবহারকারীদের জন্য সেরা সমাধান।
ফিচার ও স্পেসিফিকেশন
|
বৈশিষ্ট্য |
বিস্তারিত |
|
মডেল |
NA350/00 |
|
ক্যাপাসিটি |
৯ লিটার (৪.৫+৪.৫ লিটার) |
|
পাওয়ার |
২২০০ ওয়াট |
|
টাইমার |
সিনক্রোনাইজড টাইমার |
|
কন্ট্রোল |
ডিজিটাল টাচ স্ক্রিন |
বিস্তারিত বিবরণ
এর দুটি পৃথক বাস্কেট থাকায় একপাশে চিকেন এবং অন্যপাশে ভেজিটেবল বা ফ্রেঞ্চ ফ্রাই একই সময়ে রান্না করা সম্ভব। সিনক্রোনাইজড ফাংশন নিশ্চিত করে যে দুটি ভিন্ন খাবার একই সময়ে শেষ হবে।
মোট ৯ লিটার ক্যাপাসিটি হওয়ায় বড় অনুষ্ঠানের জন্য এটি অত্যন্ত কার্যকর এবং রান্নার সময় সাশ্রয় করে। এর ডিজিটাল ইন্টারফেসটি অত্যন্ত ইউজার-ফ্রেন্ডলি এবং এতে খাবারের স্বাদ অক্ষুণ্ণ থাকে।
মূল্যঃ প্রায় ২৩,০০০ – ২৮,০০০ টাকা।
৩. Philips NA342/09 3000 Series Digital XL (7.2L)

বড় সাইজের মধ্যে যারা কানেক্টিভিটি বা অ্যাপের ঝামেলা ছাড়াই শক্তিশালী পারফরম্যান্স চান, তাদের জন্য এটি একটি আদর্শ মডেল। এটি দেখতে যেমন আধুনিক, কাজেও তেমনি অত্যন্ত টেকসই।
ফিচার ও স্পেসিফিকেশন
|
বৈশিষ্ট্য |
বিস্তারিত |
|
মডেল |
NA342/09 |
|
ক্যাপাসিটি |
৭.২ লিটার |
|
পাওয়ার |
২০০০ ওয়াট |
|
প্রি-সেট মেনু |
৭টি প্রি-সেট অপশন |
|
টেকনোলজি |
র্যাপিড এয়ার টেকনোলজি |
|
কন্ট্রোল |
ডিজিটাল টাচ প্যানেল |
বিস্তারিত বিবরণ
এই মডেলটি মূলত HD9285 এর একটি নন-স্মার্ট ভার্সন, যা দিয়ে বিশাল পরিমাণ খাবার কোনো অ্যাপ ছাড়াই রান্না করা যায়। এর ডিজিটাল ডিসপ্লেতে থাকা ৭টি প্রি-সেট মেনু রান্নার কাজকে অনেক সহজ করে তোলে।
প্যানটি নন-স্টিক কোটিংযুক্ত হওয়ায় খাবার লেগে যায় না এবং পরিষ্কার করা খুব সহজ। বড় পরিবারের জন্য আস্ত মাছ বা মুরগি গ্রিল করার জন্য এটি একটি ভরসাযোগ্য এয়ার ফ্রায়ার।
মূল্যঃ প্রায় ২১,০০০ – ২৪,০০০ টাকা।
৪. Philips HD9280/91 Airfryer 5000 Series XL

মাঝারি ও বড় পরিবারের জন্য এটি একটি স্মার্ট এবং আধুনিক এয়ার ফ্রায়ার যা চমৎকার ডিজাইনের সাথে ডিজিটাল কানেক্টিভিটি অফার করে। এতে রয়েছে ৬.২ লিটার বাস্কেটের সুবিধা।
ফিচার ও স্পেসিফিকেশন
|
বৈশিষ্ট্য |
বিস্তারিত |
|
মডেল |
HD9280/91 |
|
ক্যাপাসিটি |
৬.২ লিটার |
|
পাওয়ার |
২০০০ ওয়াট |
|
কানেক্টিভিটি |
Wi-Fi + Amazon Alexa |
|
কন্ট্রোল |
ডিজিটাল টাচ প্যানেল |
বিস্তারিত বিবরণ
এই স্মার্ট এয়ার ফ্রায়ারটি ভয়েস কন্ট্রোল এবং মোবাইল অ্যাপ সাপোর্ট করে, যা আধুনিক জীবনযাত্রার সাথে বেশ মানানসই। ৬.২ লিটার বাস্কেটে ৫-৬ জনের স্ন্যাকস একবারে অনায়াসে তৈরি করা সম্ভব।
এর দ্রুত গরম হওয়ার ক্ষমতা এবং স্টারফিশ ডিজাইন নিশ্চিত করে যে খাবার কম তেলেই সুস্বাদু হবে। এটি টেকসই এবং দীর্ঘ সময় ধরে প্রিমিয়াম পারফরম্যান্স দিতে সক্ষম।
মূল্যঃ প্রায় ১৯,০০০ – ২১,০০০ টাকা।
৫. Philips HD9270/90 Essential Digital XL

বাংলাদেশের বাজারে ফিলিপসের সবথেকে জনপ্রিয় এবং ভ্যালু-ফর-মানি ডিজিটাল এয়ার ফ্রায়ার হলো এই HD9270 মডেলটি। এটি স্থায়িত্ব এবং কার্যকারিতার জন্য গ্রাহকদের কাছে অত্যন্ত প্রিয়।
ফিচার ও স্পেসিফিকেশন
|
বৈশিষ্ট্য |
বিস্তারিত |
|
মডেল |
HD9270/90 |
|
ক্যাপাসিটি |
৬.২ লিটার |
|
পাওয়ার |
২০০০ ওয়াট |
|
ফিচার |
কিপ ওয়ার্ম (Keep Warm) |
|
কন্ট্রোল |
ডিজিটাল টাচ প্যানেল |
বিস্তারিত বিবরণ
এর কিপ ওয়ার্ম ফাংশনটি অনন্য, যা রান্না শেষে ৩০ মিনিট পর্যন্ত খাবারকে গরম ও মচমচে রাখে। এই মডেলটি ব্যবহারের সহজ নিয়ম এবং দীর্ঘস্থায়ী বিল্ড কোয়ালিটির জন্য পরিচিত।
৬.২ লিটার সাইজটি মাঝারি পরিবারের জন্য একদম পারফেক্ট এবং এটি পরিষ্কার করা অত্যন্ত ঝামেলাহীন। যারা প্রথমবার এয়ার ফ্রায়ার কিনছেন তাদের জন্য এটি সবথেকে নিরাপদ পছন্দ।
মূল্যঃ প্রায় ১৫,০০০ – ২০,০০০ টাকা।
৬. Philips NA231/00 Series 2000 Digital XL

নতুন প্রজন্মের এই এয়ার ফ্রায়ারটি স্টাইলিশ ডিজাইন এবং সাশ্রয়ী মূল্যে বড় ক্যাপাসিটির সুবিধা প্রদান করে। এটি আধুনিক কিচেন কাউন্টারটপের জন্য খুবই মানানসই।
ফিচার ও স্পেসিফিকেশন
|
বৈশিষ্ট্য |
বিস্তারিত |
|
মডেল |
NA231/00 |
|
ক্যাপাসিটি |
৬.২ লিটার |
|
পাওয়ার |
২০০০ ওয়াট |
|
ডিজাইন |
স্লিম এবং কম্প্যাক্ট |
|
কন্ট্রোল |
ডিজিটাল টাচ ইন্টারফেস |
বিস্তারিত বিবরণ
এর নতুন স্লিম ডিজাইনের কারণে কিচেনে জায়গা কম নেয় কিন্তু রান্নার জন্য বড় ৬.২ লিটার জায়গা অফার করে। এর এনার্জি সেভিং মোড বিদ্যুৎ বিল সাশ্রয় করতে সাহায্য করে। দ্রুত গরম হওয়া এবং সহজ কিউরেটেড মোড রান্নার কাজকে অনেক দ্রুত সম্পন্ন করে। এটি বাজেটের মধ্যে প্রিমিয়াম লুক এবং বড় সাইজ পাওয়ার জন্য সেরা একটি অপশন।
মূল্যঃ প্রায় ১৫,৫০০ – ১৭,৫০০ টাকা।
৭. Philips HD9255/90 Smart Airfryer 5000 Series

ছোট পরিবারের জন্য এটি একটি স্মার্ট এবং কম্প্যাক্ট সলিউশন যা ৪.১ লিটার সাইজের সাথে ডিজিটাল কানেক্টিভিটি যুক্ত করে। এটি সীমিত জায়গায় সেরা স্মার্ট সুবিধা দেয়।
ফিচার ও স্পেসিফিকেশন
|
বৈশিষ্ট্য |
বিস্তারিত |
|
মডেল |
HD9255/90 |
|
ক্যাপাসিটি |
৪.১ লিটার |
|
পাওয়ার |
১৪০০ ওয়াট |
|
কানেক্টিভিটি |
Wi-Fi Connected |
|
ফাংশন |
১৩-ইন-১ ফাংশন |
বিস্তারিত বিবরণ
৩-৪ জনের পরিবারের জন্য এই সাইজটি উপযুক্ত এবং এতে ওয়াই-ফাইয়ের মাধ্যমে অ্যাপ থেকে সরাসরি রেসিপি কুক করা যায়। এর তেরোটি ফাংশন ব্যবহারকারীকে বিভিন্ন রকম রান্না করার স্বাধীনতা দেয়।
এটি আকারে ছোট হওয়ায় কিচেনে খুব অল্প জায়গা নেয় এবং বিদ্যুৎ খরচও অনেক কম। আধুনিক ডিজিটাল ফিচার এবং স্মার্ট কন্ট্রোল একে তরুণ প্রজন্মের পছন্দের শীর্ষে রেখেছে।
মূল্যঃ প্রায় ১৫,০০০ – ১৬,৫০০ টাকা।
৮. Philips HD9252 Digital Smart Wi-Fi Air Fryer

এটি ফিলিপসের ডিজিটাল সিরিজের সবথেকে জনপ্রিয় কমপ্যাক্ট মডেল, যা ছোট থেকে মাঝারি পরিবারের দৈনন্দিন রান্নার জন্য চমৎকার। স্টাইলিশ ডিজাইন এবং নিখুঁত পারফরম্যান্সের কারণে এটি বিশ্বজুড়ে সমাদৃত।
ফিচার ও স্পেসিফিকেশন
|
বৈশিষ্ট্য |
বিস্তারিত |
|
মডেল |
HD9252/90 |
|
সিরিজ |
Digital Airfryer |
|
ক্যাপাসিটি |
৪.১ লিটার (প্রায় ০.৮ কেজি) |
|
প্রযুক্তি |
Rapid Air Technology |
|
কন্ট্রোল |
ডিজিটাল (টাইম ও টেম্পারেচার) |
|
কুকিং ফাংশন |
Fry, Grill, Roast, Bake, Reheat |
|
পাওয়ার |
~1400–1500 W |
|
ডিজাইন |
কমপ্যাক্ট ও সহজ পরিচ্ছন্নতা |
বিস্তারিত বিবরণ
এর ডিজিটাল টাচ প্যানেলে সাতটি প্রি-সেট অপশন থাকায় মাছ, মাংস বা ফ্রেঞ্চ ফ্রাই রান্না করা যায় মাত্র এক ক্লিকেই। এটি ৩-৪ জনের ছোট পরিবারের জন্য একটি ভারসাম্যপূর্ণ সমাধান যা খাবারের পুষ্টিগুণ ও স্বাদ বজায় রাখে।
এর র্যাপিড এয়ার টেকনোলজি খাবারকে বাইরের দিক থেকে অত্যন্ত ক্রিস্পি এবং ভেতরের দিকে নরম রাখতে সাহায্য করে। বাস্কেটটি নন-স্টিক এবং ডিশওয়াশার সেফ হওয়ায় পরিষ্কার করার ঝামেলা একদমই নেই।
মূল্যঃ প্রায় ১৩,৫০০ – ১৫,০০০ টাকা।
৯. Philips HD9200 Essential Compact Air Fryer

যারা সাশ্রয়ী মূল্যে ফিলিপসের বিশ্বাসযোগ্যতা এবং সাধারণ ম্যানুয়াল কন্ট্রোল পছন্দ করেন, তাদের জন্য এটি একটি কালজয়ী মডেল। এতে কোনো ডিজিটাল সেন্সরের জটিলতা নেই।
ফিচার ও স্পেসিফিকেশন
|
বৈশিষ্ট্য |
বিস্তারিত |
|
মডেল |
HD9200 |
|
সিরিজ |
Essential |
|
ক্যাপাসিটি |
৪.১ লিটার |
|
প্রযুক্তি |
Rapid Air |
|
পাওয়ার |
১৪০০ ওয়াট |
|
কন্ট্রোল |
অ্যানালগ নব (Manual) |
|
ফাংশন |
Fry, Bake, Grill, Roast |
বিস্তারিত বিবরণ
এই ম্যানুয়াল মডেলে ডিজিটাল পার্টস কম থাকায় নষ্ট হওয়ার ভয় কম থাকে এবং বয়স্ক ব্যক্তিদের ব্যবহারের জন্য অত্যন্ত সহজ। সময় ও তাপমাত্রা নব ঘুরিয়ে খুব সহজেই সেট করা যায়। কম বাজেটের মধ্যে ফিলিপসের সেরা রান্নার কোয়ালিটি নিশ্চিত করার জন্য এই মডেলটি বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়। এটি টেকসই এবং দীর্ঘ বছর কোনো বড় সমস্যা ছাড়াই সেবা দিতে সক্ষম।
মূল্যঃ প্রায় ৯,০০০ – ১০,৫০০ টাকা।
১০. Philips NA110/00 1000 Series Compact Air Fryer 3.2L

এটি ফিলিপসের সবথেকে ছোট এবং বাজেট-ফ্রেন্ডলি এয়ার ফ্রায়ার, যা মূলত ব্যাচেলর বা দম্পতিদের হালকা খাবারের চাহিদার কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছে।
ফিচার ও স্পেসিফিকেশন
|
বৈশিষ্ট্য |
বিস্তারিত |
|
মডেল |
NA110/00 |
|
সিরিজ |
1000 Series |
|
ক্যাপাসিটি |
৩.২ লিটার |
|
প্রযুক্তি |
Rapid Air |
|
পাওয়ার |
১৩০০ ওয়াট |
|
ডিজাইন |
কম্প্যাক্ট ও পোর্টেবল |
|
কন্ট্রোল |
ডিজিটাল |
|
ফাংশন |
Fry, Grill, Bake, Reheat |
বিস্তারিত বিবরণ
ছোট এবং কিউট ডিজাইনের এই এয়ার ফ্রায়ারটি খুব দ্রুত গরম হয় এবং অল্প পরিমাণে ফ্রেঞ্চ ফ্রাই বা চিকেন ভাজার জন্য দারুণ। এটি খুব কম বিদ্যুৎ ব্যবহার করে এবং সহজে বহনযোগ্য।
যারা খুব কম টাকায় ব্র্যান্ডের এয়ার ফ্রায়ার কিনতে চান তাদের জন্য এটি সবথেকে ভালো বিকল্প। এটি পরিষ্কার করা যেমন সহজ, কিচেনের কোণায় সাজিয়ে রাখাও তেমনি সুবিধাজনক।
মূল্যঃ প্রায় ৭,৫০০ – ৯,০০০ টাকা।
ফিলিপস এয়ার ফ্রায়ার: সেরা ৩টি মডেলের তুলনামূলক বিশ্লেষণ
ফিলিপসের সবচেয়ে জনপ্রিয় তিনটি মডেলের মূল পার্থক্যগুলো নিচে টেবিল আকারে দেওয়া হলো, যা আপনাকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে:
|
ফিচার |
Philips HD9285 (XXL) |
Philips HD9270 (XL) |
Philips NA350 (Dual) |
|
ক্যাপাসিটি |
৭.২ লিটার |
৬.২ লিটার |
৯ লিটার (৪.৫+৪.৫) |
|
কন্ট্রোল |
ওয়াই-ফাই ও ডিজিটাল টাচ |
ডিজিটাল টাচ স্ক্রিন |
ডিজিটাল টাচ স্ক্রিন |
|
আদর্শ ব্যবহার |
বড় পরিবার ও আস্ত রোস্টের জন্য |
মাঝারি পরিবারের সেরা অল-রাউন্ডার |
একই সময়ে দুই পদের রান্নার জন্য |
|
পাওয়ার |
২০০০ ওয়াট |
২০০০ ওয়াট |
২২০০ ওয়াট |
|
বিশেষত্ব |
স্মার্ট অ্যাপ ও রিমোট কন্ট্রোল |
অসাধারণ স্থায়িত্ব ও জনপ্রিয়তা |
ডুয়াল বাস্কেট টেকনোলজি |
|
মূল্য |
২৫,০০০ |
১৫,৯১০ |
২৩,৫০০ |
বিশেষজ্ঞ মতামত অনুযায়ী সেরা ফিলিপস এয়ার ফ্রায়ার সুপারিশ
সবগুলো মডেল দেখার পর কোনটি আপনার রান্নাঘরের জন্য উপযুক্ত হবে, তা নির্ভর করছে আপনার নির্দিষ্ট চাহিদার ওপর:
১. সেরা অল-রাউন্ডার ও সাশ্রয়ী পছন্দ
আপনি যদি ৫-৬ জনের পরিবারের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য এয়ার ফ্রায়ার খুঁজছেন, তবে Philips HD9270 (XL) আপনার জন্য সবথেকে আদর্শ মডেল। এটি যেমন দামে সাশ্রয়ী, তেমনি এর স্থায়িত্ব অনেক বেশি এবং বাংলাদেশের ভোল্টেজ উঠানামাতেও এটি খুব ভালো পারফরম্যান্স দেয়। মাঝারি পরিবারের দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য এটিই বাজারে সবচেয়ে জনপ্রিয় অপশন।
২. স্মার্ট ফিচার ও বড় সাইজের জন্য সেরা
আপনার বাজেট যদি কিছুটা বেশি হয় এবং আপনি সবথেকে আধুনিক সুবিধাগুলো চান, তবে Philips HD9285 (XXL) বেছে নিন। এর বিশাল ৭.২ লিটার ক্যাপাসিটিতে খুব সহজেই আস্ত মুরগি বা বড় মাছ রোস্ট করা যায় এবং ওয়াই-ফাই সুবিধার মাধ্যমে আপনি মোবাইল থেকেই রান্নার অগ্রগতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। প্রিমিয়াম রান্নার অভিজ্ঞতার জন্য এটিই সেরা পছন্দ।
৩. বহুমুখী রান্না ও সময় সাশ্রয়ের জন্য সেরা
যারা একই সময়ে চিকেন ফ্রাই এবং ফ্রেঞ্চ ফ্রাইয়ের মতো দুটি ভিন্ন পদ আলাদাভাবে রান্না করতে চান, তাদের জন্য Philips NA350 (Dual) একটি চমৎকার সমাধান। এর ৯ লিটার ধারণক্ষমতা দুটি সমান ভাগে বিভক্ত হওয়ায় আপনি স্বাদের কোনো পরিবর্তন ছাড়াই দ্রুত খাবার পরিবেশন করতে পারবেন। যারা রান্নার সময় বাঁচাতে চান তাদের জন্য এটি গেম-চেঞ্জার।
প্রাসঙ্গিক নোট: আপনার বাজেট যদি ১০ হাজার টাকার আশেপাশে হয়ে থাকে, তবে Philips HD9200 মডেলটি দেখতে পারেন। এটি ম্যানুয়াল কন্ট্রোল বাটন যুক্ত হলেও রান্নার গুণগত মানের দিক থেকে অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য।
এয়ার ফ্রায়ার ব্যবহারের কিছু জরুরি নিয়ম ও সতর্কতা
ফিলিপস এয়ার ফ্রায়ার দীর্ঘস্থায়ী করতে নিচের টিপসগুলো মেনে চলুন:
- প্রি-হিটিং: রান্না শুরু করার আগে ২-৩ মিনিট এয়ার ফ্রায়ারটি চালিয়ে গরম করে নিন, এতে খাবার বেশি মচমচে হয়।
- অতিরিক্ত খাবার দেবেন না: বাস্কেটে গাদাগাদি করে খাবার দেবেন না। বাতাস চলাচলের জায়গা না থাকলে রান্না কাঁচা থেকে যেতে পারে।
- পরিষ্কার রাখা: প্রতিটি রান্নার পর বাস্কেটটি ঠান্ডা করে পরিষ্কার করুন। বাস্কেট ধোয়ার সময় শক্ত স্ক্রাবার ব্যবহার করবেন না, এতে নন-স্টিক কোটিং নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
- সরাসরি প্লাগ ব্যবহার করুন: এটি ২-৩ হাজার ওয়াটের ডিভাইস হতে পারে, তাই সাধারণ মাল্টিপ্লাগ পুড়ে যাওয়ার ভয় থাকে। সরাসরি দেওয়ালের সকেটে প্লাগ ইন করা বুদ্ধিমানের কাজ।
- সিলিকন ব্রাশ ব্যবহার: বাস্কেটে খাবার দেওয়ার আগে সিলিকন ব্রাশ দিয়ে সামান্য তেল মাখিয়ে দিলে খাবার বাস্কেটে আটকে যাওয়ার ভয় থাকে না।
Air Fryer কেনার আগে যা যা জানা জরুরী
এয়ার ফ্রায়ার কেনার সিদ্ধান্তটি আপনার রান্নাঘরের কাজের ধরণ এবং খাদ্যাভ্যাসকে আমূল বদলে দিতে পারে। তবে বাজারে অনেক ধরনের মডেল থাকায় সঠিকটি বেছে নেওয়া কিছুটা চ্যালেঞ্জিং। একটি আদর্শ এয়ার ফ্রায়ার কেনার আগে যে বিষয়গুলো আপনার নখদর্পণে থাকা প্রয়োজন, তা নিচে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো:
১. পরিবারের সদস্য অনুযায়ী সঠিক ধারণক্ষমতা
এয়ার ফ্রায়ার কেনার আগে আপনার পরিবারের সদস্য সংখ্যা বিবেচনা করা সবচেয়ে জরুরি। সাধারণত ১-২ জনের ছোট পরিবারের জন্য ২ থেকে ৩ লিটার ধারণক্ষমতার ফ্রায়ার যথেষ্ট হলেও ৩-৫ জনের পরিবারের জন্য অন্তত ৪ থেকে ৫.৫ লিটারের মডেল কেনা বুদ্ধিমানের কাজ। বড় ধারণক্ষমতার ফ্রায়ার বেছে নিলে আপনি একসাথে অনেকটা খাবার তৈরি করতে পারবেন, যা অতিথি আপ্যায়নের সময় আপনার শ্রম ও সময় দুটোই বাঁচাবে।
২. পাওয়ার রেটিং ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়
মেশিনের কর্মক্ষমতা সরাসরি এর ওয়াটেজের ওপর নির্ভর করে। সাধারণত ১০০০ থেকে ১৮০০ ওয়াটের এয়ার ফ্রায়ার বাজারে বেশি দেখা যায়; ওয়াটেজ যত বেশি হবে, মেশিন তত দ্রুত গরম হবে এবং রান্নাও দ্রুত শেষ হবে। তবে কেনার সময় খেয়াল রাখবেন যাতে সেটি এনার্জি এফিসিয়েন্ট বা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী হয়, যাতে নিয়মিত ব্যবহারে আপনার বিদ্যুৎ বিলের ওপর খুব বেশি প্রভাব না পড়ে।
৩. তাপমাত্রা ও সময় নিয়ন্ত্রণের আধুনিক ব্যবস্থা
নিখুঁত রান্নার জন্য তাপমাত্রা এবং সময়ের সঠিক নিয়ন্ত্রণ অপরিহার্য। আপনি এমন মডেল বেছে নিন যাতে ডিজিটাল ডিসপ্লের মাধ্যমে নিখুঁতভাবে তাপমাত্রা (সাধারণত ৮০°C থেকে ২০০°C) এবং সময় সেট করা যায়। অনেক মডেলে অটোমেটিক 'প্রিসেট' মেনু থাকে, যার ফলে ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, চিকেন বা কেক তৈরির জন্য আপনাকে আলাদা করে সময় বা তাপমাত্রা ভাবতে হবে না, শুধু একটি বাটন টিপলেই কাজ হয়ে যাবে।
৪. পরিষ্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের সহজলভ্যতা
রান্নার পর পরিষ্কার করার ঝামেলা এড়াতে নন-স্টিক কোটিংযুক্ত বাস্কেট বা ট্রে আছে কি না তা দেখে নিন। ডিট্যাচেবল বা খোলা যায় এমন বাস্কেট থাকলে তা ধোয়া অনেক সহজ হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে এগুলো ডিশওয়াশার সেফ হয়ে থাকে। ঝুড়ি বা ট্রে-র স্থায়িত্ব এবং এর মেটেরিয়াল ভালো মানের হলে দীর্ঘ দিন ব্যবহারের পরও খাবার আটকে যাওয়ার ভয় থাকে না।
৫. বহুমুখী ব্যবহারের সুবিধা
একটি ভালো মানের এয়ার ফ্রায়ার শুধু ভাজার কাজেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং এটি গ্রিল, বেক, রোস্ট এমনকি খাবার গরম করার কাজেও ব্যবহার করা যায়। কিছু আধুনিক মডেলে 'ডিহাইড্রেটর' সুবিধা থাকে যা ফল বা সবজি শুকিয়ে চিপস বানাতে সাহায্য করে। কেনার আগে দেখে নিন আপনার পছন্দের মডেলটি দিয়ে আপনি মাল্টি-টাস্কিং করতে পারবেন কি না।
৬. ব্র্যান্ড ভ্যালু ও নির্ভরযোগ্য ওয়ারেন্টি
বাজারে ফিলিপস (Philips), শাওমি (Xiaomi), ব্ল্যাক অ্যান্ড ডেকার (Black+Decker) বা কেনউড (Kenwood)-এর মতো অনেক নামী ব্র্যান্ড রয়েছে। নামকরা ব্র্যান্ড থেকে কিনলে আপনি যেমন টেকসই পার্টস পাবেন, তেমনি দীর্ঘমেয়াদী ওয়ারেন্টি এবং বিক্রয়োত্তর সেবা নিশ্চিত করতে পারবেন। কেনার আগে আপনার এলাকায় ওই ব্র্যান্ডের সার্ভিস সেন্টার আছে কি না, তা যাচাই করে নেওয়া জরুরি।
৭. প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ফিচার
রান্নাঘরে নিরাপত্তা সবার আগে, তাই এয়ার ফ্রায়ারে 'অটো শাট-অফ' ফিচার আছে কি না তা নিশ্চিত করুন যাতে রান্না শেষ হওয়া মাত্র মেশিন নিজে থেকেই বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়া ওভারহিটিং প্রোটেকশন এবং রান্নার সময় বডি যাতে খুব বেশি গরম না হয় (কুল-টাচ বডি), এই বিষয়গুলো আপনার এবং আপনার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
৮. বাজেট ও ব্যবহারকারীর বাস্তব অভিজ্ঞতা
দামি মানেই যে সেরা, তা সবসময় ঠিক নয়; বরং আপনার বাজেটের মধ্যে প্রয়োজনীয় সব ফিচার আছে এমন মডেলটিই আপনার জন্য সেরা। কেনার আগে অনলাইনে বিভিন্ন ই-কমার্স সাইটে ব্যবহারকারীদের রিভিউ এবং রেটিং দেখে নিন। বাস্তব ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতাই আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে যে পণ্যটি তার বিজ্ঞাপনের দাবি অনুযায়ী সত্যিই কার্যকর কি না।
উপসংহার
সুস্থ জীবনযাপনের জন্য তেলযুক্ত খাবার বর্জন করা এখন আর কোনো কঠিন কাজ নয়। ফিলিপস এয়ার ফ্রায়ার আপনার রান্নাঘরে থাকা মানে হলো স্বাদের সাথে আপোষ না করেই স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া। আশা করি, ওপরের বিস্তারিত আলোচনা থেকে আপনি আপনার পরিবারের জন্য সঠিক মডেলটি বেছে নিতে পেরেছেন।
মনে রাখবেন, একটি ভালো মানের এয়ার ফ্রায়ার কেবল সময় ও শ্রম সাশ্রয় করে না, বরং আপনার প্রিয়জনদের জন্য কম তেলে মচমচে, সুস্বাদু ও তুলনামূলক স্বাস্থ্যকর খাবার নিশ্চিত করে। তাই আপনার প্রয়োজন, পরিবারের সদস্যসংখ্যা এবং বাজেট বিবেচনা করে সঠিক Philips Air Fryer নির্বাচন করুন-আর রান্নাঘরে নিয়ে আসুন আধুনিক, স্মার্ট ও স্বাস্থ্যকর এক নতুন অভিজ্ঞতা।
